৫০ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে, জানালেন মোদী


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লায়। বুধবার, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশে চালু হয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধের 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্প।

বুধবার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর ভাষণে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর সরকারের গত ৫ বছরের সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে এ দিন স্বচ্ছ ভারত, জিএসটি, মুদ্রা লোন্‌স ও পিএমএফবিওয়াই-য়ের মতো প্রকল্পের সঙ্গে 'আয়ুষ্মান ভারত'-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জানান, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সময়েই ওই প্রকল্প চালু হবে গোটা দেশে।

প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আপাতত ওই জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প ('আয়ুষ্মান ভারত')-এর আওতায় আসবে দেশের ১০ কোটিরও বেশি গরিব পরিবার। যার মানে, অন্তত ৫০ কোটি মানুষ ওই প্রকল্পের যাবতীয় সুযোগসুবিধা পাবেন, ফি বছর। জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পে ওই ১০ কোটিরও বেশি গরিব পরিবারের প্রত্যেকটির চিকিৎসার জন্য বছরে সর্বাধিক ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা চালু হচ্ছে। ওই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছে গ্রামাঞ্চলের ৮ কোটি ৩ লক্ষ এবং শহরাঞ্চলের ২ কোটি ৩৩ লক্ষ গরিব পরিবার।

আয়ুষ্মান ভারত: আওতায় কারা? কী কী সুবিধা?
১) বছরে প্রতিটি পরিবারের চিকিৎসার জন্য সর্বাধিক ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা।
২) এই প্রকল্পের সুবিধা কারা কারা পাবেন, তা কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক জাতপাতভিত্তিক জনগণনা (সোশিও-ইকনমিক কাস্ট সেন্সাস)-র ডেটাবেসে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
৩) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, গ্রামে যাঁদের বাড়িতে কাঁচা দেওয়াল আর কাঁচা ছাদের একটি ঘর রয়েছে।
৪) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কোনও সাবালক নেই।
৫) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কোনও সাবালক নেই। আর কোনও মহিলাই সেই পরিবারের প্রধান।
৬) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যে পরিবারের অনেক সদস্যই প্রতিবন্ধী।
৭) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যে পরিবারের অনেক সদস্যই প্রতিবন্ধী আর সেই পরিবারে শারীরিক ভাবে সক্ষম কোনও সাবালক নেই।
৮) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যাঁরা গরিব তফশিলি জাতি বা গরিব তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের।
৯) তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যাঁরা দিনমজুরের কাজ করেন বা নির্দিষ্ট কোনও রুজিরোজগার নেই। বা, নেই তাঁদের কোনও স্থায়ী জমি, ঠিকানা বা আস্তানা। প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বন্ডেড লেবাররাও।
১০) কোনও পরিবার আকারে ছোট না বড়, সেই পরিবারের সদস্যদের বয়স কত, পরিবারে পুরুষ না মহিলা, কাদের সংখ্যা বেশি, এই প্রকল্পের সুযোগসুবিধা পাওয়ার জন্য সেই সব বিবেচ্য হবে না।
১১) প্রকল্পের আওতায় থাকলে হাসপাতালে থাকার যাবতীয় খরচই সরকার বহন করবে।
১২) প্রকল্পের আওতায় থাকলে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও চিকিৎসা ও পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর যাবতীয় ব্যয় সরকারই বহন করবে।
১৩) প্রকল্পের আওতায় থাকা পরিবারগুলিকে একটি কার্ড দেওয়া হবে। আর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর জন্য সেই কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।