হাসিনার জন্য মমতার উপহার আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাহায্য করতে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল ভারত। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ার পর ভারত থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে। অন্যদিকে, ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার 'হাই ভোল্টেজ ডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশনের দ্বিতীয় পর্যায়েরও উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও কলকাতা ও আগরতলা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

জাতীয় গ্রিডে নতুন আসা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের সরকারি কোম্পানি 'ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট' থেকে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট আসবে বেসরকারি কোম্পানি 'পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন' থেকে। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর। ওই সঞ্চালন লাইন দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে আসছে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

রেলপথ মন্ত্রনালয়ের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচের একটি বড় অংশ মেটানো হবে ভারতের এক বিলিয়ন ডলার ঋণের অংশ থেকে।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ১০ কিলোমিটার পড়েছে ১০ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের ৪৭৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে ভারত সরকার ঋণ হিসেবে দেবে ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাকি ৫৭ কোটি ৫ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারই যোগাবে।

রেলপথের পাশাপাশি কালভার্ট, প্যাসেঞ্জার প্ল্যাটফর্ম, প্লাটফর্ম শেড, কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ভবন এবং পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের রেল যোগযোগ সহজ হবে। রেলপথে ত্রিপুরা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার থেকে কমে দাঁড়াবে ৫১৫ কিলোমিটারে।

আর কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুরের মধ্যে ৫৩ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হবে ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা; আর ১২২ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার টাকার যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

এ প্রকল্পের অধীনে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে রেলসেতু, স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম, রেল লাইন এবং অন্যান্য রেল অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।