আকাশ থেকেই ধ্বংস করা যাবে শত্রু ডুবোজাহাজ, অ্যান্টি সাবমেরিন চপার কিনবে ভারত

এম এইচ ৬০ রোমিও অ্যান্টি সাবমেরিন চপার।

গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ চিহ্নিত করা যাবে আকাশ থেকেই। শুধু চিহ্নিত করাই নয়, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুল আঘাত হেনে তাকে নিকেশও করবে এই হেলিকপ্টার। এই রকম ক্ষমতাশালী ২৪টি হেলিকপ্টার আমেরিকার কাছ থেকে কিনবে ভারত। খরচ পড়বে প্রায় ১৪,৩৫৭ কোটি টাকা। এমনটাই জানা যাচ্ছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। দেশের উপকূল সুরক্ষিত রাখতে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের প্রয়োজন আছে বলে  দীর্ঘদিন ধরেই জানাচ্ছিল ভারতীয় সেনা।

এম এইচ ৬০ রোমিও, এই হেলিকপ্টার বানায় মার্কিন সংস্থা লখিড মার্টিন। তাঁদের সঙ্গে কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সেরে করে ফেলবে ভারত, এমনটাই জানা যাচ্ছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্ত্র মোদীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রথম কথা হয় সিঙ্গাপুরে একটি সম্মেলন চলাকালীন। তার পর থেকেই গতি পেয়েছে অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি।  সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, জরুরি ভিত্তিতে এই হেলিকপ্টার কেনা প্রয়োজন বলে আমেরিকায় চলে গিয়েছে ভারতের চিঠি। গত বেশ কিছু দিন ধরেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে বাড়ছে বোঝাপড়া। তারই অংশ হিসেবে এই হেলিকপ্টার চুক্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর্জেন্টিনায় আগামী ৩০ নভেম্বর এবং ১ ডিসেম্বর জি ২০ সম্মেলন। সেখানে মুখোমুখি হতে পারেন নরেন্দ্র মোদী  এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকেই পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকারি ভাবে ভারত বা আমেরিকার তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এই মুহূর্তে মার্কিন নৌসেনা ব্যবহার করে 'এম এইচ ৬০ রোমিও' চপার। যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে নজরদারি চালাতে এবং শত্রু জাহাজ ধ্বংস করতে এটিই পৃথিবীর সেরা হেলিকপ্টার। এটি ব্যবহার করা যাবে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং বিমানবাহী রণতরী থেকেও। ভারত মহাসাগরে চিনের বাড়তে থাকা উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চপার ভারতীয় নৌসেনার অন্যতম বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই চপার কেনা হলে ভারত- মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবসার পরিমান ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। টাকার হিসেবে যা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যা ভারত মার্কিন সম্পর্কের সর্বকালীন রেকর্ড।